আইইডিসিআর এর উপদেষ্টা মোস্তাক হোসেন স্যারের পরামর্শ:
১। করোনা ভাইরাসের বাইরের আবরণ তৈলাক্ত। অর্থাৎ ক্ষার জাতীয় পদার্থের সংস্পর্শে আসলে এর বাইরের আবরণ ধ্বংস হয়ে যায়।
২। এই কাজটি বাজারের যে কোন সাবানই করতে পারবে। কাজেই বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার না পেলে আতঙ্কিত হবেন না। অযথা স্টক করে বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিবেন না।
৩। নিজের হাতের স্পর্শের ব্যপারে সতর্ক হোন। অপরিষ্কার, শর্দি, কফ লেগে থাকতে পারে এমন কোন জিনিস বা আবরণে স্পর্শ করবেন না।
৪। অসংখ্য মানুষ স্পর্শ করে এমন আবরণ বা জিনিস স্পর্শ করবেন না।
৫। এমন স্পর্শের ঘটনা ঘটলে ভুলেও সেই হাত সাবান/স্যানিটাইজার দিয়ে ভালভাবে ধোয়া ছাড়া মুখ, নাক, চোখ বা অন্য কাউকে স্পর্শ করবেন না।
৬। হাঁচি/কাশির ব্যাপারে শিষ্টাচার মেনে চলুন। এসময় বাম হাতের কনুই দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার অভ্যাস করুন।
৭। ভিড় এড়িয়ে চলুন। ভিড়ে যেতে বাধ্য হলে মাস্ক ব্যবহার করুন ও যথা সম্ভব দুরত্ব অবলম্বন করুন।
৮। ঘরে প্রবেশের সময় নিজের পোশাক ও ব্যবহার্য একটি নির্দিষ্ট ঘরে পরিবর্তনের অভ্যাস করুন। বাইরের পোশাক নিয়ে ঘরে ঢুকেই বিছানায় বা সোফায় বসার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৯। পোশাক পরিবর্তন, সঠিকভাবে হাত মুখ ও শরীরের উন্মুক্ত অংশ না ধুয়ে পরিবারের কাউকে স্পর্শ করবেন না। এতে আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপদ থাকবে।
১০। স্পর্শ করতে হয় নিজের এমন ব্যবহার্য জিনিস (মোবাইল, মানিব্যাগ, কলম, চায়ের কাপসহ অন্যান্য) যতদূর সম্ভব স্যানিটাইজ করুন।
১১। গণ পরিবহন এড়িয়ে চলা উত্তম। বাধ্য হলে নিজেকে অন্যের স্পর্শ, হাঁচি, কাশি থেকে নিরাপদে রাখতে চেষ্টা করুন।
১২। ঘরের ব্যবহার্য কিছু জিনিস চিহ্নিত করুন যেগুলো শুধুমাত্র বাইরে ব্যবহার হবে। ঘরের অভ্যন্তরে ব্যবহার্য জিনিস যেন এগুলোর সাথে না মেশে।
১৩। হ্যান্ড শেক, কোলাকুলিসহ বাইরের মানুষের সাথে যে কোন স্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
১৪। নিজের ও প্রতিবেশীদের সচেতন করুন। কথ, থুথু, পানের পিক, কুলি করা পানি যেন কেউ বাড়ির বাইরে বা আশেপাশে না ফেলে।
১৫। আপনি একলা সচেতন হলে হবে না। আপনার পাশের মানুষের অসচেতনতার জন্য আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন, আপনি যতই সচেতন হোন না কেন।
১৬। পরিবারের বয়স্কদের ব্যপারে বেশি যত্নশীল হোন। কেননা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবেচেয় কম।
১৭। করোনার কোন লক্ষণ টের পেলেই আইইডিআর এর হটলাইনে যোগাযোগ করুন। লক্ষণ টের পেয়েও লুকিয়ে রাখবেন না। আপনি আক্রান্ত হয়ে লুকিয়ে থাকলে আপনার চিকিৎসাও হবে না, আপনার মাধ্যমে আপনার পরিবার এভাবে আরো অনেকে আক্রান্ত হতে পারে।
কাজেই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইটা আমাদের সকলের। আমরা সবাই সচেতন হলেই কেবল এই করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করা সম্ভব।


0 Comments