যে ভাবে প্রস্তুতি নিলে ব্যাংক লিখিত পরীক্ষা ভালো করা যেতে পারে

অনেকের কাছেই ব্যাংক প্রিলি ডাল-ভাত কিন্তু রিটেন পাশ করতে পারেন না। আবার অনেকে বলেন ৭/৮ টা ভাইভা ফেল। এর মূল কারন রিটেনে ভালো মার্কস না পাওয়া। ভাইভাতে ৫/৭ মার্কস ভেরি করে কিন্তু পোস্টের ৩ গুন ভাইভা টিকানোর ফলে অনেকই ভাইভা দিলেও কাঙ্ক্ষিত জবটা পায় না। তাই জবের জন্য রিটেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকে অনেক রকম সাজেশন দেন। এইটা পড়তে হবে, এই ভাবে পড়তে হবে। আসল ব্যাপার টা হল সে কিন্তু সাজেশন দিচ্ছেন সামগ্রিকভাবে, আপনাকে ডায়াগনোসিস করে নয়। তাই আপনার কি সমস্যা, আপনার কোন পার্টে কত গুরুত্ব দেয়া উচিত, সেটা আপনি ঠিক করবেন। এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিবেন।

সবগুলো পার্টে আপনি কখনোই পারফেক্ট না। আবার সবগুলোই দুর্বল নয়। আপনার অবস্থান অনুযায়ী আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন কিভাবে আগাবেন। কারন আমি আমার মত করে পড়ি। বলতে গেলে কখনো বাড়িতে প্যাসেজ প্রাকটিস করিনি। এক্সাম হলেই প্যাসেজ উত্তর করেছি।অনুবাদ চর্চার জন্য অনেকেই পেপার বা বিভিন্ন বই সাজেস্ট করেছে কিন্তু আমি এডিটরিয়াল বা প্রাকটিস না করে কিছু অর্থ মুখস্থ করেছি। এটা আমরা জন্য বেটার মনে হইছে আপনারটা আপনি বুঝবেন কি করা উচিত। ফোকাসের জন্য ২৫/৩০ টা টপিক সম্পর্কিত ধারনা নিয়েছি আর ১৫/২০ টা তথ্য-উপাত্ত (৫ বছরের) মুখস্ত করেছি। কমন বা রিলেটেড তথ্য এইসব মিলিয়ে একটা আদর্শ ফোকাস লিখার চেষ্টা করতাম কারন ফোকাস কমন পাবার আশা করা বোকামি। লেটার/ এপ্লিকেশন তাই করেছি ১২/১৫ টা ফরমেট ধারনা নিয়েছি। প্রশ্ন অনুযায়ী ফরমেট ঠিক রাখলে হবে। আর ভিতের মূল বিষয়ের কিছু আলোচনা। ম্যাথের জন্য বিগত বছরের সব আর আগারওয়াল করেছি। ওয়েবসাইট না গিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের ম্যাথ সলভ করে দিতাম। কারন অনেকেই কঠিন আর ওয়েবের না পারা ম্যাথ গুলোই গ্রুপে দেয়। আমি আসলে গ্রুপে ম্যাথ সলভ করেই ম্যথের প্রিপারেশন নিতাম। আমার এই নিজের প্রিপারেশনের সাথে হয়তো কারো মিল ছিল বা ছিল না। এইগুলো আমার ওয়ে তাই আপনার ওয়ে কেমন হবে সেটা আপনি বেটার ঠিক করে নিবেন। এবার আসুন সামগ্রিক ভাবে কিছু কথা বলি। আপনি এখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় অংশ নিবেন। 


বিগত দিনের সব রিটেন সিলেবাস কিছুটা এমন (মোট ২০০ মার্ক)
ম্যাথ -৭০(৭*১০/৫*১৪)
প্যাসেজ -২০(৪*৫)
লেটার/এপ্লিকেশন -৩০(২*১৫)
অনুবাদ -৩০(২*১৫)
ফোকাস -৫০(২০+৩০)  


ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার ম্যাথ প্রস্তুতি -

ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার জন্য ম্যাথ খুব গুরুত্বপূর্ন। কারন ম্যাথে প্রায় সময় ৭০ মার্ক দেওয়া হলেও আবার অনেক সময় ৯০ মার্ক পর্যন্ত ম্যাথের মার্ক দেখা গেছে। ২০০ নাম্বারের মধ্যে যদি ৯০ নাম্বার শুধু ম্যাথে থাকে তবে ম্যাথের গুরুত্ব নিজেই চিন্তা করেন। স্বাভাবিক প্রশ্ন হলে লিখিত পরীক্ষার কাট মার্ক থাকে ১২০ থেকে ১৪০ এর মধ্যে। প্রশ্ন কঠিন হলে সেটা ১০০ বা ১১০ হয় আর সহজ হলে ১৫০ বা ১৬০ হয় (যদিও এটা ধারনা মাত্র)।

তাই ব্যাংক লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ম্যাথ করার কোন বিকল্প নাই। কোন ম্যাথ করবেন কি ভাবে করবেন তা সবাই লিস্ট করে বলে দেয়। সে গুলো দেখে করতে পারেন। আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো অন্যের লিস্ট না দেখে নিজে লিস্ট করুন। এ জন্য আপনাকে বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান শুরু করতে হবে। ধরুন আস্ট বা AUST এর নেওয়া এক্সাম গুলো দিয়ে শুরু করবেন। এখন আপনি প্রতিটা প্রশ্ন সমাধান করার সময় প্রতিটা অংকের ট্রপিক নোট করবেন। ধরুন, কোনটা মিশ্রণ থেকে কোনটা ট্রেন থেকে আবার লাভ ক্ষতি থেকে আসছে। আপনি ট্রপিক লিখে তার পাশে কোন কোন পরীক্ষায় আসছে তা নোট করে নিলেন। তাহলে আস্ট/AUST এর সব অংক শেষ হওয়ার পর নিজেই বুজতে পারবেন কোন ট্রপিক থেকে সব চেয়ে বেশি অংক এসেছে। সেই ট্রপিক গুলো প্রথমে জাফর ইকবাল আনসারী ভাইয়ের বই থেকে করুন বা আপনার কাছে যে ব্যাংক রিটেন ম্যাথের বই আছে সেটা থেকে করুন। এর পর সেই ট্রপিক গুলো আগারওয়ালের বই থেকে করুন। তারপর চাইলে ভাল কয়েকটি ম্যাথের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন। এভাবে আপনি সব ফ্যাকাল্টির বিগত প্রশ্ন শেষ করবেন। এতে আপনাকে আর ম্যাথের জন্য পিছে তাকাতে হবে না। নিজেই বুঝবেন কোন কোন ট্রপিক থেকে ম্যাথ আসে। আপনাকে কি কি গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। এতে আপনার দারুন একটা প্রস্তুতি হবে।

ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার প্যাসেজ প্রস্তুতি -

প্রায় সব ব্যাংক লিখিত পরীক্ষায় ২০ মার্কের একটা প্যাসেজ থাকে। এতে পাঁচটি প্রশ্ন থেকে প্যাসেজ থেকে। উত্তর দ্রুত করার জন্য প্যাসেজ পড়ার আগে প্রশ্ন গুলো পড়ে নিতে হবে। তারপর প্যাসেজ পড়া শুরু করলে উত্তর বের করা সহজ হয় কারণ প্রশ্ন গুলো মাথায় থাকে জন্য প্যাসেজের মধ্যে উত্তর পাওয়া গেলে সে গুলো মার্ক করে রাখা যায়। প্যাসেজ পড়া শেষ হলে মার্ক করা অংশ থেকে ধারনা নিয়ে নিজের মত করে উত্তর লিখতে হবে, যেন প্যাসেজের সাথে না মিলে। নিতান্তই না পারলে প্যাসেজের সাথে মিলিয়েই লিখবেন কিন্তু বাদ দিয়ে আসা যাবে না। ভাল লিখতে পারলে ১৫ প্লাস মার্ক পেতে পারেন। তাই ইংরেজীতে দক্ষতা থাকতে হবে। এজন্য বিগত সালের প্রশ্নের সমাধান করার সাথে বিসিএস রিটেন এর প্যাসেজ সলভ করার কৌশল দেখতে পারেন।   


ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার লেটার/অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুতি -

ব্যাংক লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ২ টা  (বাংলা এবং ইংরেজি) লেটার/ অ্যাপ্লিকেশন আসে। মার্ক থাকে ১৫ করে। ফরমেট ঠিক রেখে লিখতে পারলেই ১০ পাওয়া যায়। ভালো হলে আরও বেশি। এখানে শুধু লেটার/অ্যাপ্লিকেশন বলা হলেও এগুলোর ধরন অনেক এবং ধরন ভেদে লেখার নিয়ম আলাদা। তাই সব নিয়ম সমন্ধে ধারনা রাখতে হবে।সাধারানত যে বিষয় নিয়ে আসে তা হল-

১। জন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয় পত্রিকায় প্রকাশের জন্য সংবাদ পত্রের সম্পাদকের নিকট আবেদন। 
২। কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা মন্ত্রীর নিকট কোন বিষয় নিয়ে জানিয়ে সেটা করার জন্য আবেদন।
৩। ব্যাংকার হিসাবে কোন কোর্স করার জন্য বা কোন কাজের অনুমতি চেয়ে ম্যানেজারের নিকট আবেদন
৪। প্রতিবেদন
৫। রিপোর্ট 
৬। কোন বিষয় জানিয়ে বিশেষ কাউকে চিঠি
এমন অনেক ধরনের আসে। এ ট্রপিকে ভালো করার জন্য আপনাকে বিগত বছরের সব প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। এ জন্য আপনি A2B Focus Writing + বইটা দেখতে পারেন। এতে সব গুলো প্রশ্ন সমাধান ও লেখার নিয়ম বিস্তারিত পাবেন। অথবা আপনি নিজে নিজে সমাধান করতে পারেন।

ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার অনুবাদ প্রস্তুতি -

অনুবাদ ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপুর্ন। বাংলা থেকে ইংরেজি আর ইংরেজি থেকে বাংলা এই দুটি অনুবাদ আসে। এক্ষেত্রে ৩০ অথবা ৪০ মার্ক থাকে দুটো মিলে। ভালো ভাবে অনুবাদ করতে পারলে ম্যাথের মত মার্ক পাওয়া যায়। অনুবাদ ভালো করার জন্য আপনাকে প্রতিদিন কিছু কিছু অনুবাদ চর্চা করতে হবে। এ জন্য আপনি দেখতে পারেন সাইফুরস এর ট্রান্সলেশন বইটা অথবা ক্যাডার অনুবাদ বিদ্যা বইটা। আর প্রতিদিন কিছু নতুন শব্দ আয়াত্ত করতে থাকুন। নিয়মিত পড়তে থাকলে ভালো ভাবে অনুবাদ করতে পারবেন।

ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার ফোকাস রাইটিং প্রস্তুতি -

ফোকাস রাইটিং হবুহু কমন না পরার সম্ভাবনা বেশি। তাই আলোচিত বিষয় গুলোর সাথে কিছু বেসিক বিষয় নিয়মিত পড়তে হবে। যে টপিকগুলো ফোকাসের জন্য আমি প্রতিটা রিটেনের আগে ধারনা নিয়ে যেতাম। 
০. আলোচিত সব ইস্যু
১. জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ।
২. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা।
৩. মধ্যম আয়ের দেশ বাংলাদেশ।
৪. রেমিটেন্স।
৫. NPL ও নিয়ন্ত্রণ।
৬. SME
৭. রোহিঙ্গা সমস্যা ও প্রতিকার।
৮. বিশ্বে নারীর ভূমিকা।
৯. Good Governance
১০. ICT
১১. খাদ্য।
১২. পোশাক।
১৩. স্যাটেলাইট ও মহাকাশ।
১৪. ঔষধ।
১৫. কৃষি।
১৬. নিরাপদ সড়ক।
১৭. মানবপাচার।
১৮. Green economy
১৯. Blue economy
২০. তারল্য সংকট।
২১. বাজেট।
২২. মেট্রোরেল।
২৩. এজেন্ট ব্যাংকিং।
২৪. সাইবার ক্রাইম।
২৫. ডিজিটাল বাংলাদেশ।
২৬. পাওয়ার প্লান্ট।
২৭. বাংলাদেশের ইতিহাস,ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ।

কম-বেশি আরো কিছু ছিল তবে এইগুলো থেকেই কাছাকাছি আসলে সব মিলিয়ে একটা আদর্শ ফোকাস লিখার চেষ্টা করতাম।তথ্যবহুল কিছু ডাটার মাধ্যমে উপস্থাপন করলে ভালো নম্বর আসা করা যায়। আর মনে রাখবেন ফোকাস মোট ৫০ নম্বর। ইংরেজি বা বাংলা ব্যাপার না আপনার টপিক রিলেটেড ধারনা থাকলে আপনি যে কোন টা লিখতে পারবেন। আপনি লেখার ধারনা পেতে আর বিগত প্রশ্নের সমাধান পেতে
A2B Focus Writing + বইটি দেখতে পারেন। 


সব মিলিয়ে আপনি যদি এ ভাবে পড়তে পারেন আর সব গুছিয়ে নিতে পারেন আশা করি ভাল করতে পারবেন লিখিত পরীক্ষায়।
ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

Post a Comment

0 Comments