প্রাইমারি সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বহাল রাখা সহ অন্য অন্য দাবি

"শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড" আর এই শিক্ষার প্রাথমিক এই দায়িত্ব পালন করে প্রাইমারি শিক্ষকগন। কিন্তু এই প্রাইমারি শিক্ষকগন বরাবরই কেন জানি অবহেলিত। রোদ বৃষ্টি মাথায় করে যে শিক্ষকগন শিক্ষাদানের মত গুরু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সময় প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে অধিদপ্তর কেন জানি তাদের নূন্যতম সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারলেই নিজেকে সার্থক মনে করে।
এক জন শিক্ষক জানান, "শিক্ষদের লাঞ্চ ভাতা দেওয়া হচ্ছে ৬.৬৬ টাকা। এখন কার দিনে ৬.৬৬ টাকা লাঞ্চ ভাতা দিয়ে কি হয় বা এর উদ্দেশ্য কি তা কারো বোধগম্য নয়।"

বেতন নিয়ে বৈষম্য অনেক আগের ,যার সুষ্ঠ সমাধান না হতেই নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে আরেক বৈষম্য । প্রাইমারি শিক্ষদের জন্য নতুন নিয়োগবিধি-২০১৯ তৈরি করা হচ্ছে। যার খসড়াতে দেখা গেছে প্রাইমারি সহকারি শিক্ষকগন বিভাগীয় প্রার্থীতার সুবিধা পাবে না। প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক পাবেন বিভাগীয় প্রার্থীর সুবিধা, সে ক্ষেত্রে তার চাকুরির বয়স হতে হবে তিন বছর। উল্লেখ্য পুর্বের নিয়োগবিধিতে সহকারি শিক্ষকগন বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে আবেদন করতে পারতেন।
দুঃখ প্রকাশ করে একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, " প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক কেন বিভাগীয় প্রার্থী হবে না তা তার বোধগম্য নয়। প্রাইমারি অধিদপ্তরের অধিনে চাকুরি করে এমন সবই বিভাগীয় প্রার্থী হওয়ার কথা। যে সব সরকারি জবে হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে শুধু প্রধান শিক্ষককে বিভাগীয় প্রার্থী বলা হচ্ছে, তাইলে সহকারি শিক্ষকগন কি? তারা কি সরকারের অন্য কোন বিভাগে জব করে? আর পূর্বের নীতিমালাতে সহকারি শিক্ষকদের যে বিভাগীয় প্রার্থীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, সেটা কী ভুল ছিল?"

তিনি আরও বলেন, " বর্তামানে নন-ক্যাডার থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যেটা শত ভাগ সহকারী শিক্ষদের মাঝে থাকে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে নেওয়া উচিত। এক জন সহকারি শিক্ষক নানা সময়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সেই ভালো বুঝে প্রধান শিক্ষক পদের দায়িত্ব কর্তব্য কি। অথচ এক জন নতুন মানুষকে প্রতিষ্ঠান প্রধান করে পাঠানো হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে কি প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্য মত প্রার্থী নাই? অবশ্যই আছে, কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের কোন এক অজানা কারনে ছোট করে দেখা হয়। তাই শত ভাগ প্রধান শিক্ষক বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারি শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেওয়া হয় না। যেটা করার তিনি জোর দাবি জানান।"

নাম প্রকাশ না করে অন্য এক জন শিক্ষক জানান, 

"শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সব সহকারি শিক্ষককে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। চাকুরির বয়স দুই বা তিন বছর হতে হবে এমন শর্ত থাকা চলবে না। 

বিভাগীয় প্রার্থীর ক্ষেতে বয়স ৪৫ বছর থাকবে।

যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে বিভাগীয় সকল উচ্চ পদে আবেদন করতে দিতে হবে।

সব পদে ৮০ শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীকে সুযোগ দিতে হবে।

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে দিতে হবে অথবা প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার মাধ্যমে হলেও ৮০  শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য রাখতে হবে।

নন-ক্যাডার থেকে বিভাগীয় পদ গুলোতে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।"

বর্তামানে যারা প্রাইমারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করছেন ,তারা সবাই গ্রাজুয়েশন শেষ করেই যোগদান করছেন। এদের বেশির ভাগ মেধাবী ।প্রাইমারিতে যোগদানের পেছনে এদের অনেকের দর্শন হচ্ছে এখন থেকে তো সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পিটিআই ইন্সট্রাকটর, পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইউআরসি ইন্সট্রাকটর, সহকারী ইন্সট্রাকটর পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে যাওয়ার সুযোগ আছে। সে সুযোগ কাজে লাগাবে। সবাই হয়তো এই পদ গুলোতে যেতে পারবে না। কিন্তু এই পদের আশায় যে মেধাবী শিক্ষক গুলো প্রাইমারিতে যোগদান পাঠাদান করে যাচ্ছে তা অধিদপ্তরের জন্য কল্যাণকর।

এখন এই নিয়োগবিধি সংশোধনের জন্য সকল সহকারি শিক্ষকগন দাবি জানাচ্ছেন এবং তাদের চাওয়া
১। নিয়োগ বিধি - ২০১৯ সংশোধন করে প্রাইমারি শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মরত সকল চাকুরীজীবী কে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে রাখতে হবে।
২। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ যোগ্য সকল বিভাগীয় পদে বিভাগীয় প্রার্থী হিসাবে বয়সের শর্ত শিথিল করে আবেদনের সুযোগ দিতে হবে।
৩। বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য ৮০শতাংশ পদ রাখতে হবে।
৪। যোগদানের পর থেকেই বিভাগীয় পার্থী হিসাবে গণ্য করতে হবে।
৫। সহকারি শিক্ষককে এন্ট্রি পদ ধরে পরিচালক পর্যন্ত পদন্নতির বিধান রাখতে হবে।
৬। স্নাতকোত্তর শেষ করে যোগদান করা শিক্ষকদের উচ্চ গ্রেডে বেতন ধরতে হবে।

নব নিযুক্ত একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, "উপরের প্রতিটা দাবি যুক্তিযুক্ত। অধিদপ্তর কার সার্থে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এটা অধিদপ্তর ভাল জানে। আমার মনে হয় ,সহকারি শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত কেউ এখন আর প্রধান শিক্ষক হওয়ার তেমন সুযোগ পাবেন না। কারন এখন বেশির ভাগ প্রধান শিক্ষক আসে নন-ক্যাডার থেকে। আবার যারা প্রধান শিক্ষক হবেন সহকারি শিক্ষক থেকে তাদের বয়স ৪৫ পার হয়ে যাবে। তাই সহকারি শিক্ষক ছাড়া যারা অধিদপ্তরে নিয়োগ পাচ্ছেন ,তাদের সার্থেই এমন নিয়োগ বিধি করা হচ্ছে। যা কখনো মেনে নেওয়া হবে না। আমরা প্রাইমারি সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। না মানলে আমরা আইনের আশ্রয় নিবো এবং সর্বশেষ আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হব। এ জন্য আমাদের শিক্ষক নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন, আপনারাও আমাদের দাবি গুলো সময়ে সময়ে আপনাদের সাইটে প্রকাশ করে আমাদের সাথে থাকবেন।"

Post a Comment

0 Comments