বর্তমান সময়ে আলোচিত তিনটি দাবি
প্রাইমারি নিয়োগে প্যানেল চাই
চাকুরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ চাই
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্যানেল চাই
দাবি গুলোর কোনটা কি অযৌক্তিক?
কোন দাবি আমার মতে অযৌক্তিক নয়। কিন্তু দাবি গুলো বরাবরই অবহেলিত। দেশের নীতি নির্ধারক মহল বরাবরই দাবি গুলো কে পাশ কাটিয়ে আসছেন। একবারও কি নীতি নির্ধারকদের মনে হয়েছেি।"কেন এমন দাবি গুলো উঠছে একবার ভেবে দেখি।"। আমার মনে হয় না তারা এটা ভেবেছে কখনো। একটা দাবি উঠেছে, একদল মানুষ কিছু একটা চাইছে কি ভাবে তাদের দমন করা যায় নীতি নির্ধারকেরা এটা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।পৃথিবীর যে কোন দেশে কোন দাবি উঠলে, সরকার বা নীতি নির্ধারকেরা সেই দাবির গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করে, দাবি গুলো বিশ্লেষন করে, তার পরে সিদ্ধান্ত নেয় কি করা যায়। আর আমাদের দেশে কোন দাবি উঠলে , কোন দাবি নিয়ে আন্দোলন হলে সরকার বা নীতি নির্ধারকেরা সেটা কি ভাবে পূলিশি প্রক্রিয়ার দমন করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করে।
প্রাইমারি নিয়োগে প্যানেল চাই
এই দাবি কেন করা হচ্ছে? কারন ২০১৮ সালের প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ৫৫ হাজার মানুষ ভাইভা দিয়েছিল। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার মানুষকে। বাকী ৩৭ হাজার মানুষ কি করবে? হ্যাঁ ১২ হাজার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল সেটা বাড়িয়ে ১৮ হাজার করা হয়েছে। তবুও কেন আবার প্যানেলের জন্য আবেদন?
"তবুও কেন আবার প্যানেলের জন্য আবেদন ?" এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে হবে আমাদের নীতি নির্ধারকদের। তবেই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু আমাদের নীতি নির্ধারকেরা তাদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। তাই তাদের জনগণের দাবি নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নাই।
তবুও কেন আবার প্যানেলের জন্য আবেদন? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে যে বিষয় গুলো আমার সামনে আসে
- নিয়োগে দীর্ঘসুত্রীতা
- শিক্ষা জীবনে সেশন জটের কারনে বয়স শেষ হওয়া
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দূর্নীতি
প্রাইমারির ২০১৪ সালের নিয়োগ হয়েছিল ২০১৮ সালের শেষের দিকে। অনেক মেয়ের স্বপ্নই থাকে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা হওয়া। এখন ২০১৪ সালে যে মেয়ে আবেদন করতে পারে নাই সে হয়তো লাইফে একটা প্রাইমারি এক্সাম দিয়েই তার বয়স শেষ । আবার যে ২০১৪ তে আবেদন করতে পেরেছিল সে হয়তো লাইফে ২ টা প্রাইমারি পরিক্ষা দিতে পেরেছে। কিন্তু তার ইচ্ছে ছিল অন্তত প্রতি বছর একটা করে এক্সাম দেওয়া কিন্তু সে পারে নাই। যেহুতু প্রাইমারি জব অনেকের স্বপ্ন তাই প্রাইমারিতে প্যানেলের দাবি উঠেছে।
মেয়েদের যেমন সমস্যা আছে তেমনি ছেলে দের আছে বয়স শেষ হওয়ার সমস্যা। সরকার না মানলেও সত্য ২০১৭ থেকে ২০২১ যাদের বয়স শেষ হয়েছে বা হচ্ছে তারা শিক্ষা জীবনের কোন না কোন সময় সেশন জটে পরেছেন। এতে তাদের বয়স শেষ হয়েছে। বয়স শেষ হওয়া অনেকে আছে এই ৩৭ হাজার মানুষের মাঝে। সেশন জট তো কোন শিক্ষার্থীর দোষে হয় নাই। সরকার এই সেশন জটে পরা শিক্ষার্থীর জন্য কি কোন উদ্যোগ নিয়েছে? নেয় নাই। তারা তাই শেষ অবলম্বন হিসাবে প্রাইমারি নিয়োগে প্যানেল চায়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দূর্নীতি আমাদের ঐতিহ্যের মত। দূর্নীতি না হলেই কেমন কেমন যেন লাগে। প্রাইমারিতে প্রশ্ন আউট থেকে শুরু করে কেন্দ্র দখল , ভাইভা দেখা সহ কি হয় নাই বা হয় না। তবে সর্ব শেষ নিয়োগ পরীক্ষায় এটার হার ছিল অনেক কম। যারা লিখিত পাশ করেছে তাদের ম্যক্সিমাম প্রার্থী এবার মেধাবী। যারা মেধাবী তাদের ভয় সামনে যদি আবার আগের মত দূর্নীতি হয় তাইলে হয়তো মেধা দিয়ে আমরা নাও টিকতে পারি। আবার বয়স শেষ হওয়ার একটা ভয় তো আছেই। তাই তারা প্রাইমারি নিয়োগে প্যানেল চায়।
প্রাইমারি নিয়োগের প্যানেলের দাবিও তাই যৌক্তিক।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্যানেল চাই
২০১৯ এর আগে শেষ কবে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয়েছিল জানা নাই। ২০১৯ সালে পিএসসির মাধ্যমে যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে তা ছিল যথেষ্ট স্বছ। যারা এমসিকিউ টাইপের লিখিত পরীক্ষা পাশ করেছে তারা সবাই মেধাবী। কিন্তু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্যানেলের দাবি কেন উঠলো?
এখানেও সেই কমন সমস্যা বয়স। অনেক দিন পরে পরে নিয়োগ হয়। যারা ভাইভা পাশ করে ফাইনালি জবটা পাবে তাদের অনেকেই হয়তো জব শিফট করবে। তখন ফাকা হবে পোস্ট। সেই পোস্ট গুলোতে আবার সার্কুলার হবে, আবেদন হবে, পরীক্ষা হবে। কিন্তু এবার লিখিত পরীক্ষায় পাশ করা অনেকেই বয়স শেষ হওয়ার কারনে এক্সাম দিতে পারবে না। তাদের এই চিন্তা থেকেই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্যানেলের দাবি। শিক্ষা জীবনে সেশন জটে বয়স হারানোর জন্য দায়ী শিক্ষার্থী না। দায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা। সরকার তাদের জন্য কি ব্যবস্থা নিয়েছে?
যেহুতু সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় নাই তাই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে প্যানেলের দাবিও যৌক্তিক।
চাকুরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ চাই
উপরে ২ টা দাবি নিয়ে আলোচনা করলাম। দাবি ২ টার কারন ব্যাখ্যা করলাম। দুটো দাবির জন্য ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি থাকলেও একটা কমন বিষয় হচ্ছে বয়স। জব সেক্টরে এমনিতেই তুমুল প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় নামতে গিয়েই অনেকের বয়স ৩০ পার হয়ে যায়। সবাই পড়া লেখা করে একটা চাকুরি পাওয়ার আসায়। কিন্তু কিছু দিন আগেও আমাদের দেশে ব্যাপক সেশন জট ছিল। যেটা বর্তমান সময়ে কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত যাদের বয়স ৩০ হয়েছে তারা সবাই কম বেশি দুই বা তিন বছর সময় জটে পরে শেষ করে এসেছেন। এই লাখ লাখ যুবক এখন হতাস। দিনের পর দিন তারা আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলন জড়ালো হলে হয়তো এত দিনে সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু আন্দোলন জড়ালো হয় না বলে সমাধান নাই। কিন্তু বয়স শেষ হলেও একটা শ্রেনী এটা হবে এই আশায় বসে আছে।
তাই নীতি নির্ধারকদের বলবো দ্রুত দাবি গুলো বিবেচনায় নিয়ে মেনে নিন।
যুব সমজ কে দাবি আদায়ে আটকে না রেখে তাদের মুক্ত চিন্তা করার সুযোগ দিন। দেশ গঠনের কাজ হাত লাগানোর সুযোগ দিন।
| preparation bd |

0 Comments